পাঁচ পাকিস্তানিসহ আটজন সাফাই সাক্ষীর প্রতি সমন দেওয়ার আরজি জানিয়ে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর করা আবেদন খারিজ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
গত ১৯ অক্টোবর সাকা চৌধুরীর আইনজীবী পাঁচ পাকিস্তানিসহ আটজন সাফাই সাক্ষীর প্রতি সমন দেওয়ার আরজি জানিয়ে আপিল বিভাগে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, সাকা চৌধুরী যে ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ১৯৭৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলেন না, এ বিষয়ে আটজন সাক্ষ্য দিতে চান। আদালতের সমন পেলে তাঁরা এসে সাক্ষ্য দেবেন।
সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য ছিল। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় সাকা চৌধুরীর পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ১৭ নম্বরে ছিল। এর সঙ্গে ছিল সাক্ষীদের প্রতি সমন জারির নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনটি।
সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য ছিল। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় সাকা চৌধুরীর পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ১৭ নম্বরে ছিল। এর সঙ্গে ছিল সাক্ষীদের প্রতি সমন জারির নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনটি।
আজ সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ। অন্যদিকে সাফাই সাক্ষীদের প্রতি সমন জারির নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনটি খারিজ করেন আদালত। পরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আটজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সমন জারির নির্দেশনা চেয়ে যে আবেদনটি করা হয়েছিল, আদালত তা খারিজ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আবেদনটি খারিজ করার আগে আদালত মন্তব্য করেছেন—১৯৭১ সালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যে বাংলাদেশে ছিলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ অকাট্য যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। আদালত তা বিশ্বাস করে রায় দিয়েছেন। ফলে আসামিপক্ষের আরজি এখানে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আদালত বলেছেন—সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যে একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আহত হয়েছিলেন, এ বিষয়ে ওই সময় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরে তাঁকে আসামি করে চারটি মামলা হয়েছে।
মাহবুবে আলম বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করেই আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর গত ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের ওই রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর সাকা চৌধুরী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন